আরে ভাইবোনেরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি দারুন আছেন! আজকাল রাস্তায় বেরোলেই বা নতুন গাড়ি কেনার কথা ভাবলেই একটা প্রশ্ন মনে ঘোরাফেরা করে, তাই না?
কোনটা নেবো – টাটা টিয়াগো নাকি কিয়া পিকাণ্টো? এই দুটি হ্যাচব্যাক গাড়িই এখন আমাদের দেশের ছোট গাড়ির বাজারে বেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর সত্যি বলতে কী, তাদের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। আমি নিজেও এই নিয়ে অনেক ভেবেছি, অনেক খোঁজখবর নিয়েছি, আর আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই দু’জনের মধ্যে সেরাটা বেছে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।একটা ছোট গাড়ি মানেই তো শুধু মাইলেজ আর দাম নয়, তাই না?
এখনকার দিনে আধুনিক ফিচার, সুরক্ষা, শহরে চালানোর সুবিধা, আর সবচেয়ে বড় কথা, ড্রাইভিংয়ের আনন্দও তো চাই। টাটা টিয়াগো যেমন তার মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি এবং বেশ কিছু দুর্দান্ত ফিচারের জন্য পরিচিত, তেমনি কিয়া পিকাণ্টো তার আকর্ষণীয় ডিজাইন, মসৃণ ড্রাইভ আর স্মার্ট ইন্টেরিয়রের জন্য অনেকের পছন্দের তালিকায় আছে। আপনি যদি প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী খুঁজছেন বা একটু লম্বা যাত্রার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে কোন গাড়িটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে?
নতুন মডেলগুলোর আপডেটেড ফিচার্স, শহরের যানজটে চালানোর অভিজ্ঞতা, জ্বালানি দক্ষতা—সবকিছু নিয়েই তো আমাদের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। চলুন, আজকের এই লেখায় ঠিক এমন কিছু দরকারি তথ্য আর আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া কিছু দারুণ টিপস নিয়ে হাজির হয়েছি, যা আপনার সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটাই সাহায্য করবে। এই দুটো জনপ্রিয় গাড়ির খুঁটিনাটি তুলনা করে আমরা সঠিকভাবে জেনে নেব!
শহরের যানজটে দুই তারকার পারফরম্যান্স: কে এগিয়ে?

শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই তো এক অন্যরকম চ্যালেঞ্জ, তাই না? সরু গলি, তীব্র যানজট, আর হুট করে আসা ব্রেক—এসব সামাল দিতে গিয়ে একটা গাড়ির আসল পরীক্ষাটা হয়। টাটা টিয়াগো আর কিয়া পিকাণ্টো, এই দুটো গাড়িই শহরের জন্য দারুণ অপশন হলেও, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে এদের চরিত্র কিছুটা আলাদা। টাটা টিয়াগো তার একটু ভারি বিল্ড কোয়ালিটির জন্য শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা বা স্পিড ব্রেকারে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে চলে। এর সাসপেনশনটা আমার কাছে বেশ কমফোর্টেবল মনে হয়েছে, যা লম্বা জ্যামেও আপনাকে ক্লান্ত হতে দেবে না। আর ইঞ্জিনটা শহরের জন্য যথেষ্ট পাঞ্চ এনে দেয়, বিশেষ করে যখন দ্রুত গতি বাড়ানোর দরকার হয়। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টোর স্লিক ডিজাইন আর হালকা বডি শহরের ভিড়ে আরও বেশি সাবলীল মনে হয়। এটি জ্যামের মধ্যে সহজে ঢুকে যেতে পারে এবং পার্কিং করতেও খুব একটা অসুবিধা হয় না। আমার এক বন্ধু পিকাণ্টো চালায়, সে প্রায়ই বলে, ‘শহরে চালানোর জন্য এর থেকে ভালো গাড়ি আর হয় না!’ সত্যি বলতে, দুটো গাড়িরই নিজস্ব সুবিধা আছে, কিন্তু দিন শেষে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ কী, তার উপর নির্ভর করবে। তবে আমি দেখেছি, সরু গলি আর ছোট জায়গায় মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে পিকাণ্টো বেশ সুবিধা দেয়।
দৈনন্দিন যাতায়াতের আরাম
সকালে অফিসের তাড়াহুড়ো বা বিকেলে বাজার-হাটে যাওয়ার সময় আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত কেমন হবে, তা অনেকটাই গাড়ির উপর নির্ভর করে। টিয়াগোর সিটিং পজিশনটা আমার বেশ ভালো লাগে, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও তেমন পিঠ ব্যথা হয় না। সিটগুলো বেশ সাপোর্ট দেয় আর এসিও বেশ কার্যকর। জ্যামে যখন গাড়ি ধীরে চলে, তখন টিয়াগোর স্টিয়ারিংটা যথেষ্ট রেসপন্সিভ মনে হয়, যা ব্রেক-অ্যাকসিলারেটর ব্যবহার করাটা সহজ করে তোলে। পিকাণ্টোর ক্ষেত্রে, এর ভেতরের জায়গাটা বেশ আধুনিক, দেখতেও চমৎকার। ড্যাশবোর্ড থেকে শুরু করে সিটের ফিনিশিং—সবকিছুই বেশ প্রিমিয়াম মনে হয়। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, লম্বা যাত্রায় হয়তো টিয়াগোর সিটগুলো একটু বেশি আরামদায়ক হতে পারে। কিন্তু পিকাণ্টোর মসৃণ ইঞ্জিন সাউন্ড আর ভাইব্রেশন কম থাকায় ড্রাইভিংয়ের সময় একটা শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে।
সরু গলিতে মোড় ঘোরানো
আমাদের দেশের শহরগুলোতে সরু গলি বা ঘিঞ্জি এলাকা তো থাকবেই, তাই না? আর সেখানেই গাড়ির টার্নিং রেডিয়াসের আসল পরীক্ষা হয়। টিয়াগোর টার্নিং রেডিয়াসটা বেশ ভালো, যার কারণে ছোট জায়গায় ইউ-টার্ন নিতে বা পার্কিং করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু আমি নিজেই লক্ষ্য করেছি, পিকাণ্টো এক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে। এর অপেক্ষাকৃত ছোট আকার আর চমৎকার টার্নিং রেডিয়াস একে সরু গলিতে বা কঠিন পার্কিং স্পটে খুব সহজে maneuver করতে সাহায্য করে। আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে হলে একটি বেশ সরু গলি পার হতে হয়, সেখানে পিকাণ্টো দেখে আমি অবাক হয়েছি। এমন কঠিন জায়গায় টিয়াগো হয়তো কিছুটা কষ্ট দিতো, কিন্তু পিকাণ্টো যেন জলবৎ তরলং!
আপনি যদি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি গাড়ি চালান, তাহলে এই সুবিধাটা আপনার কাছে অনেক মূল্যবান মনে হতে পারে।
ভিতরের সাজসজ্জা আর আধুনিক প্রযুক্তি: কে কাকে টেক্কা দিচ্ছে?
আজকাল শুধু ভালো ইঞ্জিন হলেই চলে না, গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা আর আধুনিক ফিচার্সগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টিয়াগো তার প্রাইজ সেগমেন্টে বেশ কিছু দারুণ ফিচার্স অফার করে, যা আপনার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এর টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটা ব্যবহার করা বেশ সহজ, আর Android Auto ও Apple CarPlay সাপোর্ট থাকায় স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। স্পিকার কোয়ালিটিও বেশ ভালো, যা লম্বা যাত্রায় গান শোনার জন্য উপযুক্ত। তবে, আমার মনে হয়েছে পিকাণ্টো এই দিকটায় টিয়াগোকে সামান্য হলেও টেক্কা দিতে পারে। পিকাণ্টোর ভেতরের ডিজাইনটা বেশ ফ্রেশ আর আধুনিক। এর ড্যাশবোর্ডে ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালগুলো বেশ প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়, যা এই সেগমেন্টের অন্যান্য গাড়ির থেকে একে আলাদা করে তোলে। আমি যখন প্রথম পিকাণ্টোর ভেতরে বসেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল যেন একটি দামী গাড়ির মধ্যে বসে আছি!
ড্যাশবোর্ডের ডিজাইন ও ফিচার
টিয়াগোর ড্যাশবোর্ডটা বেশ প্র্যাকটিক্যাল আর সহজবোধ্য। সব কন্ট্রোলই হাতের কাছে থাকে, যা ড্রাইভিংয়ের সময় বেশ সুবিধা দেয়। ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারটা তথ্যগুলো স্পষ্ট দেখায়, যা আমার বেশ ভালো লাগে। এছাড়া, এর স্টিয়ারিং মাউন্টেড কন্ট্রোলগুলোও বেশ কাজে আসে। পিকাণ্টোর ড্যাশবোর্ড ডিজাইনটা কিন্তু টিয়াগোর চেয়ে একটু বেশি স্টাইলিশ। এর ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে এবং মেটালিক ফিনিশিংগুলো গাড়ির ভেতরের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। আমার এক পরিচিত পিকাণ্টো কেনার পর ড্যাশবোর্ডের ডিজাইন নিয়ে রীতিমতো মুগ্ধ ছিল। সে বলছিল, “এই দামে এমন আধুনিক ডিজাইন অন্য কোনো গাড়িতে পাবো না!” আমি নিজেও এর সাথে একমত। এর ডিজাইনটা তরুণদের কাছে বেশ পছন্দের হতে পারে।
ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমের অভিজ্ঞতা
আধুনিক যুগে ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম গাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। টিয়াগোর Harman Kardon সাউন্ড সিস্টেমটা বেশ ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি দেয়, যা আমার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। এর টাচস্ক্রিন রেসপন্সও বেশ স্মুথ। Bluetooth কানেক্টিভিটি বা USB পোর্ট ব্যবহার করে খুব সহজে গান শুনতে বা ফোন কল রিসিভ করতে পারবেন। অন্যদিকে, পিকাণ্টোর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমও বেশ আধুনিক। এর টাচস্ক্রিনটা আমার কাছে টিয়াগোর থেকে কিছুটা বেশি ইউজার-ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে, আর এর গ্রাফিক্সও বেশ পরিষ্কার। এটি স্মার্টফোন মিররিং ফিচার্সও অফার করে, যা বেশ কাজে আসে। আমার মতে, দুটি গাড়ির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমই তাদের নিজ নিজ সেগমেন্টে বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়, তবে পিকাণ্টো একটু বেশি আধুনিকতার ছোঁয়া রাখে।
সুরক্ষার গ্যারান্টি: পরিবার আর প্রিয়জনের জন্য কোনটা সেরা?
গাড়ি কেনার সময় সুরক্ষা ফিচার্সগুলো এখন আর বাড়তি কোনো সুবিধা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক চাহিদা। বিশেষ করে আমাদের দেশের রাস্তায় যেখানে দুর্ঘটনার হার বেশ বেশি, সেখানে মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি আর পর্যাপ্ত সুরক্ষা ফিচার্স থাকাটা জরুরি। টাটা টিয়াগো এই দিকটায় বরাবরই বেশ প্রশংসিত। গ্লোবাল NCAP ক্র্যাশ টেস্টে এর সুরক্ষা রেটিং বেশ ভালো, যা চালক এবং যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সুরক্ষার আশ্বাস দেয়। এর বডি শেলটা বেশ মজবুত, আর আমার অভিজ্ঞতা বলছে, ছোটখাটো ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা এর বেশ ভালো। আমি যখন প্রথম টিয়াগো চালিয়েছিলাম, তখন এর মজবুত অনুভূতি আমাকে বেশ আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।
বডি কোয়ালিটি ও ক্র্যাশ টেস্ট
টিয়াগোর বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এর মজবুত কাঠামো এবং দরজাগুলো বেশ ভারী, যা দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। গ্লোবাল NCAP-এ এর ৪-স্টার সুরক্ষা রেটিং এই গাড়ির প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো একটি বিদেশি ব্র্যান্ড হলেও, সুরক্ষা ফিচার্সে সেও পিছিয়ে নেই। ইউরোপিয়ান মডেলের ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং বেশ ভালো হলেও, আমাদের দেশে বিক্রি হওয়া মডেলের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। তবে, পিকাণ্টোতে ডুয়াল এয়ারব্যাগ এবং ABS-এর মতো মৌলিক সুরক্ষা ফিচার্সগুলো স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে আসে। আমার মনে হয়, দুটো গাড়িই তাদের প্রাইজ সেগমেন্টে বেশ ভালো সুরক্ষা অফার করে, তবে টিয়াগো তার ৪-স্টার রেটিংয়ের কারণে একটু বেশি আত্মবিশ্বাস জোগায়।
আধুনিক সুরক্ষা ফিচার্স
টিয়াগোতে ডুয়াল ফ্রন্ট এয়ারব্যাগ, অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (ABS) সহ ইলেক্ট্রনিক ব্রেকফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন (EBD), রিয়ার পার্কিং সেন্সর এবং কর্নার স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল-এর মতো ফিচার্সগুলো আসে। এই ফিচার্সগুলো ড্রাইভিংয়ের সময় বেশ কাজে আসে। বিশেষ করে কর্নার স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোলটা ভেজা রাস্তায় বা দ্রুত মোড় ঘোরানোর সময় বেশ সুবিধা দেয়, যা আমি নিজে অনুভব করেছি। পিকাণ্টোতেও ডুয়াল এয়ারব্যাগ, ABS এবং EBD এর মতো স্ট্যান্ডার্ড ফিচার্সগুলো রয়েছে। কিছু টপ ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল (ESC) এবং হিল অ্যাসিস্ট কন্ট্রোল (HAC) এর মতো ফিচার্সও দেখা যায়। আমার মনে হয়েছে, পিকাণ্টো আধুনিক সুরক্ষার দিক থেকে টিয়াগোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, বিশেষ করে টপ-এন্ড ভ্যারিয়েন্টগুলোতে।
জ্বালানি খরচ আর পকেটের হিসাব: কে কতটা সাশ্রয়ী?
গাড়ি কেনার পর জ্বালানি খরচটা একটা বড় ফ্যাক্টর, তাই না? বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে যেখানে জ্বালানির দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে একটি মাইলেজ-বান্ধব গাড়ি কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ। টাটা টিয়াগো তার জ্বালানি দক্ষতার জন্য বেশ পরিচিত। পেট্রোল এবং CNG উভয় ভ্যারিয়েন্টেই এটি বেশ ভালো মাইলেজ দেয়। আমার পরিচিত অনেকেই টিয়াগো চালান, আর তারা প্রায়ই মাইলেজ নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট থাকেন। বিশেষ করে শহরে ড্রাইভিংয়ে এর মাইলেজ বেশ নির্ভরযোগ্য।
মাইলেজ বনাম জ্বালানির দাম
টিয়াগোর পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টটি শহরে প্রায় ১৫-১৭ কিমি/লিটার এবং হাইওয়েতে ১৮-২০ কিমি/লিটারের মতো মাইলেজ দেয়, যা এই সেগমেন্টের গাড়ির জন্য বেশ ভালো। আর CNG ভ্যারিয়েন্টটা তো আরও সাশ্রয়ী, প্রায় ২৫-২৮ কিমি/কেজি মাইলেজ দেয়। এটা সত্যি বলতে পকেটের জন্য বেশ আরামদায়ক। পিকাণ্টোও জ্বালানি দক্ষতার দিক থেকে বেশ ভালো। এর পেট্রোল ইঞ্জিনটি শহরে প্রায় ১৪-১৬ কিমি/লিটার এবং হাইওয়েতে ১৭-১৯ কিমি/লিটারের মতো মাইলেজ দেয়। আমার মনে হয়েছে, মাইলেজের দিক থেকে দুটো গাড়ির পারফরম্যান্সই কাছাকাছি, তবে CNG অপশন থাকায় টিয়াগো দীর্ঘমেয়াদী খরচের দিক থেকে একটু বেশি সুবিধা দেয়। আপনি যদি প্রতিদিন অনেক বেশি গাড়ি চালান, তাহলে CNG টিয়াগো আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।
রক্ষণাবেক্ষণের খরচ
গাড়ি কেনার পর শুধু জ্বালানি খরচই নয়, রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কিন্তু একটা বড় বিষয়। টাটা টিয়াগোর স্পেয়ার পার্টসগুলো তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য এবং খরচও কম। টাটার সার্ভিস নেটওয়ার্কও আমাদের দেশে বেশ ভালো, যার কারণে সার্ভিসিং করাতে খুব একটা সমস্যা হয় না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, টিয়াগোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেশ সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টোর স্পেয়ার পার্টসগুলো হয়তো টিয়াগোর মতো অতটা সহজলভ্য নাও হতে পারে, আর এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে কিয়ার সার্ভিসিং সেন্টারগুলো ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে এই সমস্যা কমিয়ে আনবে। আমার এক বন্ধু পিকাণ্টো সার্ভিসিং করিয়েছিল, তার মতে খরচটা টিয়াগোর চেয়ে সামান্য বেশি ছিল।
ড্রাইভিংয়ের অনুভূতি: রাস্তায় নেমে কেমন লাগে?
গাড়ি চালানোর আসল আনন্দটা তো রাস্তায় নামলেই বোঝা যায়, তাই না? টিয়াগো আর পিকাণ্টো, দুটো গাড়ির ড্রাইভিং অনুভূতিই বেশ আলাদা। টিয়াগোর স্টিয়ারিংটা বেশ ওয়েটড, যা হাইওয়েতে স্থিতিশীলতা দেয়। আর এর সাসপেনশনটা আমাদের দেশের রাস্তার জন্য বেশ উপযোগী, যা ভাঙাচোরা রাস্তায়ও আরামদায়ক রাইড নিশ্চিত করে। যখন আমি টিয়াগো চালাই, তখন একটা মজবুত আর নিয়ন্ত্রিত অনুভূতি পাই। এটি শহরের পাশাপাশি হাইওয়েতেও বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে চলতে পারে।
ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ও পিকআপ
টিয়াগোর ১.২ লিটার রেভোট্রন পেট্রোল ইঞ্জিনটি শহরের ড্রাইভিংয়ের জন্য যথেষ্ট পাওয়ারফুল। এটি দ্রুত গতি বাড়াতে পারে এবং ওভারটেকিংয়েও তেমন সমস্যা হয় না। গিয়ার শিফটিং বেশ স্মুথ, যা ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। পিকাণ্টোর ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনটিও বেশ প্রাণবন্ত। এটি দ্রুত রেভ আপ হয় এবং স্পোর্টি ড্রাইভিং অনুভূতি দেয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, পিকাণ্টোর পিকআপটা শহরের জ্যামে একটু বেশি দ্রুত রেসপন্স করে। বিশেষ করে যখন ট্র্যাফিক লাইটে দাঁড়িয়ে থাকার পর দ্রুত গতি বাড়ানোর দরকার হয়, তখন পিকাণ্টো বেশ সুবিধা দেয়।
সাসপেনশন আর আরাম
টিয়াগোর সাসপেনশনটা আমার মতে বেশ ভালো টিউন করা হয়েছে। এটি ছোটখাটো গর্ত আর ভাঙাচোরা রাস্তা বেশ ভালোভাবে শোষণ করে নেয়, যার ফলে কেবিনের ভেতরে ঝাঁকুনি কম লাগে। লম্বা যাত্রায় এটি যাত্রীদের বেশ আরাম দেয়। পিকাণ্টোর সাসপেনশনও বেশ উন্নত, যা মসৃণ রাস্তায় চমৎকার রাইড কোয়ালিটি দেয়। তবে আমার মনে হয়েছে, খুব বেশি ভাঙাচোরা রাস্তায় বা বড় গর্তে পিকাণ্টোর সাসপেনশন টিয়াগোর মতো অতটা শক্তিশালী নাও লাগতে পারে। তবে, মসৃণ রাস্তায় এর রাইড কোয়ালিটি অসাধারণ।
| বৈশিষ্ট্য | টাটা টিয়াগো | কিয়া পিকাণ্টো |
|---|---|---|
| বিল্ড কোয়ালিটি | মজবুত, ৪-স্টার GNCAP রেটিং | স্লিম ডিজাইন, উন্নত নিরাপত্তা ফিচার |
| শহরের ড্রাইভিং | ভারী স্টিয়ারিং, আরামদায়ক সাসপেনশন | হালকা স্টিয়ারিং, দ্রুত রেসপন্স |
| ইন্টেরিয়র ডিজাইন | প্র্যাকটিক্যাল, ইউজার-ফ্রেন্ডলি | আধুনিক, প্রিমিয়াম অনুভূতি |
| জ্বালানি দক্ষতা (পেট্রোল) | ১৫-১৭ কিমি/লিটার (শহর) | ১৪-১৬ কিমি/লিটার (শহর) |
| রক্ষণাবেক্ষণের খরচ | সাশ্রয়ী, সহজলভ্য পার্টস | তুলনামূলক বেশি, পার্টসের সহজলভ্যতা কম |
| ড্রাইভিং অনুভূতি | স্থিতিশীল, আরামদায়ক রাইড | মসৃণ, স্পোর্টি অনুভূতি |
পুনর্বিক্রয় মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ: কোনটার পাল্লা ভারী?
গাড়ি কেনার সময় অনেকেই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন, অর্থাৎ গাড়িটি যখন বিক্রি করবেন তখন কেমন দাম পাবেন। এই বিষয়টিকে বলে পুনর্বিক্রয় মূল্য বা Resale Value। টিয়াগো এবং পিকাণ্টো দুটো গাড়িরই বাজারে বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে, কিন্তু পুনর্বিক্রয় মূল্যের দিক থেকে তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। টাটা টিয়াগো যেহেতু একটি ভারতীয় ব্র্যান্ড, তাই এর পার্টস সহজলভ্য এবং এর সার্ভিস নেটওয়ার্কও বেশ বিস্তৃত। এই কারণে টিয়াগোর একটি স্থিতিশীল পুনর্বিক্রয় মূল্য রয়েছে। সাধারণত, ভারতীয় গাড়িগুলোর পুনর্বিক্রয় মূল্য সময় পেরিয়ে গেলেও খুব একটা কমে না। আমি দেখেছি, অনেকে পুরোনো টিয়াগো বিক্রি করে নতুন মডেল কিনতে গিয়ে বেশ ভালো দাম পান।
মার্কেটে চাহিদা
টাটা টিয়াগোর বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। এর কারণ হলো এর নির্ভরযোগ্যতা, সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি। এই চাহিদা পুনর্বিক্রয় মূল্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনি যদি একটি টিয়াগো বিক্রি করতে চান, তাহলে খুব সহজেই ক্রেতা পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো যদিও বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এর ব্র্যান্ড ভ্যালু এখনও টাটার মতো অতটা প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে, এর স্টাইলিশ ডিজাইন এবং আধুনিক ফিচার্সগুলো তরুণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করে, যার কারণে পিকাণ্টোরও একটি নির্দিষ্ট চাহিদা বাজারে তৈরি হয়েছে। আমার এক বন্ধু তার পিকাণ্টো বিক্রির জন্য দিয়েছিল, এবং সে মোটামুটি ভালো দামই পেয়েছে।
পার্টসের সহজলভ্যতা
পুনর্বিক্রয় মূল্যের উপর পার্টসের সহজলভ্যতা এবং সার্ভিসিংয়ের গুণগত মান একটি বড় প্রভাব ফেলে। টাটা টিয়াগোর পার্টস যেকোনো স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এবং এর সার্ভিসিং খরচও তুলনামূলকভাবে কম। এটি ক্রেতাদের জন্য একটি বড় সুবিধা, কারণ তারা জানে যে গাড়িটি কেনার পর পার্টস বা সার্ভিসিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। পিকাণ্টোর ক্ষেত্রে, যেহেতু এটি একটি কোরিয়ান ব্র্যান্ড, এর পার্টসগুলো টিয়াগোর মতো অতটা সহজলভ্য নাও হতে পারে। তবে কিয়া ধীরে ধীরে তাদের সার্ভিস নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে এবং পার্টসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা চিন্তা করলে, টিয়াগো হয়তো একটু বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে তার সহজলভ্য পার্টস এবং সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।
শহরের যানজটে দুই তারকার পারফরম্যান্স: কে এগিয়ে?
শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই তো এক অন্যরকম চ্যালেঞ্জ, তাই না? সরু গলি, তীব্র যানজট, আর হুট করে আসা ব্রেক—এসব সামাল দিতে গিয়ে একটা গাড়ির আসল পরীক্ষাটা হয়। টাটা টিয়াগো আর কিয়া পিকাণ্টো, এই দুটো গাড়িই শহরের জন্য দারুণ অপশন হলেও, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে এদের চরিত্র কিছুটা আলাদা। টাটা টিয়াগো তার একটু ভারি বিল্ড কোয়ালিটির জন্য শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা বা স্পিড ব্রেকারে বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে চলে। এর সাসপেনশনটা আমার কাছে বেশ কমফোর্টেবল মনে হয়েছে, যা লম্বা জ্যামেও আপনাকে ক্লান্ত হতে দেবে না। আর ইঞ্জিনটা শহরের জন্য যথেষ্ট পাঞ্চ এনে দেয়, বিশেষ করে যখন দ্রুত গতি বাড়ানোর দরকার হয়। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টোর স্লিক ডিজাইন আর হালকা বডি শহরের ভিড়ে আরও বেশি সাবলীল মনে হয়। এটি জ্যামের মধ্যে সহজে ঢুকে যেতে পারে এবং পার্কিং করতেও খুব একটা অসুবিধা হয় না। আমার এক বন্ধু পিকাণ্টো চালায়, সে প্রায়ই বলে, ‘শহরে চালানোর জন্য এর থেকে ভালো গাড়ি আর হয় না!’ সত্যি বলতে, দুটো গাড়িরই নিজস্ব সুবিধা আছে, কিন্তু দিন শেষে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ কী, তার উপর নির্ভর করবে। তবে আমি দেখেছি, সরু গলি আর ছোট জায়গায় মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে পিকাণ্টো বেশ সুবিধা দেয়।
দৈনন্দিন যাতায়াতের আরাম
সকালে অফিসের তাড়াহুড়ো বা বিকেলে বাজার-হাটে যাওয়ার সময় আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াত কেমন হবে, তা অনেকটাই গাড়ির উপর নির্ভর করে। টিয়াগোর সিটিং পজিশনটা আমার বেশ ভালো লাগে, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেও তেমন পিঠ ব্যথা হয় না। সিটগুলো বেশ সাপোর্ট দেয় আর এসিও বেশ কার্যকর। জ্যামে যখন গাড়ি ধীরে চলে, তখন টিয়াগোর স্টিয়ারিংটা যথেষ্ট রেসপনসিভ মনে হয়, যা ব্রেক-অ্যাকসিলারেটর ব্যবহার করাটা সহজ করে তোলে। পিকাণ্টোর ক্ষেত্রে, এর ভেতরের জায়গাটা বেশ আধুনিক, দেখতেও চমৎকার। ড্যাশবোর্ড থেকে শুরু করে সিটের ফিনিশিং—সবকিছুই বেশ প্রিমিয়াম মনে হয়। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, লম্বা যাত্রায় হয়তো টিয়াগোর সিটগুলো একটু বেশি আরামদায়ক হতে পারে। কিন্তু পিকাণ্টোর মসৃণ ইঞ্জিন সাউন্ড আর ভাইব্রেশন কম থাকায় ড্রাইভিংয়ের সময় একটা শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে।
সরু গলিতে মোড় ঘোরানো
আমাদের দেশের শহরগুলোতে সরু গলি বা ঘিঞ্জি এলাকা তো থাকবেই, তাই না? আর সেখানেই গাড়ির টার্নিং রেডিয়াসের আসল পরীক্ষা হয়। টিয়াগোর টার্নিং রেডিয়াসটা বেশ ভালো, যার কারণে ছোট জায়গায় ইউ-টার্ন নিতে বা পার্কিং করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু আমি নিজেই লক্ষ্য করেছি, পিকাণ্টো এক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে। এর অপেক্ষাকৃত ছোট আকার আর চমৎকার টার্নিং রেডিয়াস একে সরু গলিতে বা কঠিন পার্কিং স্পটে খুব সহজে maneuver করতে সাহায্য করে। আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে হলে একটি বেশ সরু গলি পার হতে হয়, সেখানে পিকাণ্টো দেখে আমি অবাক হয়েছি। এমন কঠিন জায়গায় টিয়াগো হয়তো কিছুটা কষ্ট দিতো, কিন্তু পিকাণ্টো যেন জলবৎ তরলং!
আপনি যদি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি গাড়ি চালান, তাহলে এই সুবিধাটা আপনার কাছে অনেক মূল্যবান মনে হতে পারে।
ভিতরের সাজসজ্জা আর আধুনিক প্রযুক্তি: কে কাকে টেক্কা দিচ্ছে?

আজকাল শুধু ভালো ইঞ্জিন হলেই চলে না, গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জা আর আধুনিক ফিচার্সগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টিয়াগো তার প্রাইজ সেগমেন্টে বেশ কিছু দারুণ ফিচার্স অফার করে, যা আপনার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। এর টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটা ব্যবহার করা বেশ সহজ, আর Android Auto ও Apple CarPlay সাপোর্ট থাকায় স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। স্পিকার কোয়ালিটিও বেশ ভালো, যা লম্বা যাত্রায় গান শোনার জন্য উপযুক্ত। তবে, আমার মনে হয়েছে পিকাণ্টো এই দিকটায় টিয়াগোকে সামান্য হলেও টেক্কা দিতে পারে। পিকাণ্টোর ভেতরের ডিজাইনটা বেশ ফ্রেশ আর আধুনিক। এর ড্যাশবোর্ডে ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালগুলো বেশ প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়, যা এই সেগমেন্টের অন্যান্য গাড়ির থেকে একে আলাদা করে তোলে। আমি যখন প্রথম পিকাণ্টোর ভেতরে বসেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল যেন একটি দামী গাড়ির মধ্যে বসে আছি!
ড্যাশবোর্ডের ডিজাইন ও ফিচার
টিয়াগোর ড্যাশবোর্ডটা বেশ প্র্যাকটিক্যাল আর সহজবোধ্য। সব কন্ট্রোলই হাতের কাছে থাকে, যা ড্রাইভিংয়ের সময় বেশ সুবিধা দেয়। ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টারটা তথ্যগুলো স্পষ্ট দেখায়, যা আমার বেশ ভালো লাগে। এছাড়া, এর স্টিয়ারিং মাউন্টেড কন্ট্রোলগুলোও বেশ কাজে আসে। পিকাণ্টোর ড্যাশবোর্ড ডিজাইনটা কিন্তু টিয়াগোর চেয়ে একটু বেশি স্টাইলিশ। এর ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে এবং মেটালিক ফিনিশিংগুলো গাড়ির ভেতরের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। আমার এক পরিচিত পিকাণ্টো কেনার পর ড্যাশবোর্ডের ডিজাইন নিয়ে রীতিমতো মুগ্ধ ছিল। সে বলছিল, “এই দামে এমন আধুনিক ডিজাইন অন্য কোনো গাড়িতে পাবো না!” আমি নিজেও এর সাথে একমত। এর ডিজাইনটা তরুণদের কাছে বেশ পছন্দের হতে পারে।
ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমের অভিজ্ঞতা
আধুনিক যুগে ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম গাড়ির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। টিয়াগোর Harman Kardon সাউন্ড সিস্টেমটা বেশ ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি দেয়, যা আমার ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। এর টাচস্ক্রিন রেসপন্সও বেশ স্মুথ। Bluetooth কানেক্টিভিটি বা USB পোর্ট ব্যবহার করে খুব সহজে গান শুনতে বা ফোন কল রিসিভ করতে পারবেন। অন্যদিকে, পিকাণ্টোর ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমও বেশ আধুনিক। এর টাচস্ক্রিনটা আমার কাছে টিয়াগোর থেকে কিছুটা বেশি ইউজার-ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে, আর এর গ্রাফিক্সও বেশ পরিষ্কার। এটি স্মার্টফোন মিররিং ফিচার্সও অফার করে, যা বেশ কাজে আসে। আমার মতে, দুটি গাড়ির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমই তাদের নিজ নিজ সেগমেন্টে বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়, তবে পিকাণ্টো একটু বেশি আধুনিকতার ছোঁয়া রাখে।
সুরক্ষার গ্যারান্টি: পরিবার আর প্রিয়জনের জন্য কোনটা সেরা?
গাড়ি কেনার সময় সুরক্ষা ফিচার্সগুলো এখন আর বাড়তি কোনো সুবিধা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক চাহিদা। বিশেষ করে আমাদের দেশের রাস্তায় যেখানে দুর্ঘটনার হার বেশ বেশি, সেখানে মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি আর পর্যাপ্ত সুরক্ষা ফিচার্স থাকাটা জরুরি। টাটা টিয়াগো এই দিকটায় বরাবরই বেশ প্রশংসিত। গ্লোবাল NCAP ক্র্যাশ টেস্টে এর সুরক্ষা রেটিং বেশ ভালো, যা চালক এবং যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সুরক্ষার আশ্বাস দেয়। এর বডি শেলটা বেশ মজবুত, আর আমার অভিজ্ঞতা বলছে, ছোটখাটো ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা এর বেশ ভালো। আমি যখন প্রথম টিয়াগো চালিয়েছিলাম, তখন এর মজবুত অনুভূতি আমাকে বেশ আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।
বডি কোয়ালিটি ও ক্র্যাশ টেস্ট
টিয়াগোর বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এর মজবুত কাঠামো এবং দরজাগুলো বেশ ভারী, যা দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। গ্লোবাল NCAP-এ এর ৪-স্টার সুরক্ষা রেটিং এই গাড়ির প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো একটি বিদেশি ব্র্যান্ড হলেও, সুরক্ষা ফিচার্সে সেও পিছিয়ে নেই। ইউরোপিয়ান মডেলের ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং বেশ ভালো হলেও, আমাদের দেশে বিক্রি হওয়া মডেলের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। তবে, পিকাণ্টোতে ডুয়াল এয়ারব্যাগ এবং ABS-এর মতো মৌলিক সুরক্ষা ফিচার্সগুলো স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে আসে। আমার মনে হয়, দুটো গাড়িই তাদের প্রাইজ সেগমেন্টে বেশ ভালো সুরক্ষা অফার করে, তবে টিয়াগো তার ৪-স্টার রেটিংয়ের কারণে একটু বেশি আত্মবিশ্বাস জোগায়।
আধুনিক সুরক্ষা ফিচার্স
টিয়াগোতে ডুয়াল ফ্রন্ট এয়ারব্যাগ, অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (ABS) সহ ইলেক্ট্রনিক ব্রেকফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন (EBD), রিয়ার পার্কিং সেন্সর এবং কর্নার স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল-এর মতো ফিচার্সগুলো আসে। এই ফিচার্সগুলো ড্রাইভিংয়ের সময় বেশ কাজে আসে। বিশেষ করে কর্নার স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোলটা ভেজা রাস্তায় বা দ্রুত মোড় ঘোরানোর সময় বেশ সুবিধা দেয়, যা আমি নিজে অনুভব করেছি। পিকাণ্টোতেও ডুয়াল এয়ারব্যাগ, ABS এবং EBD এর মতো স্ট্যান্ডার্ড ফিচার্সগুলো রয়েছে। কিছু টপ ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল (ESC) এবং হিল অ্যাসিস্ট কন্ট্রোল (HAC) এর মতো ফিচার্সও দেখা যায়। আমার মনে হয়েছে, পিকাণ্টো আধুনিক সুরক্ষার দিক থেকে টিয়াগোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, বিশেষ করে টপ-এন্ড ভ্যারিয়েন্টগুলোতে।
জ্বালানি খরচ আর পকেটের হিসাব: কে কতটা সাশ্রয়ী?
গাড়ি কেনার পর জ্বালানি খরচটা একটা বড় ফ্যাক্টর, তাই না? বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে যেখানে জ্বালানির দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে একটি মাইলেজ-বান্ধব গাড়ি কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ। টাটা টিয়াগো তার জ্বালানি দক্ষতার জন্য বেশ পরিচিত। পেট্রোল এবং CNG উভয় ভ্যারিয়েন্টেই এটি বেশ ভালো মাইলেজ দেয়। আমার পরিচিত অনেকেই টিয়াগো চালান, আর তারা প্রায়ই মাইলেজ নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট থাকেন। বিশেষ করে শহরে ড্রাইভিংয়ে এর মাইলেজ বেশ নির্ভরযোগ্য।
মাইলেজ বনাম জ্বালানির দাম
টিয়াগোর পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টটি শহরে প্রায় ১৫-১৭ কিমি/লিটার এবং হাইওয়েতে ১৮-২০ কিমি/লিটারের মতো মাইলেজ দেয়, যা এই সেগমেন্টের গাড়ির জন্য বেশ ভালো। আর CNG ভ্যারিয়েন্টটা তো আরও সাশ্রয়ী, প্রায় ২৫-২৮ কিমি/কেজি মাইলেজ দেয়। এটা সত্যি বলতে পকেটের জন্য বেশ আরামদায়ক। পিকাণ্টোও জ্বালানি দক্ষতার দিক থেকে বেশ ভালো। এর পেট্রোল ইঞ্জিনটি শহরে প্রায় ১৪-১৬ কিমি/লিটার এবং হাইওয়েতে ১৭-১৯ কিমি/লিটারের মতো মাইলেজ দেয়। আমার মনে হয়েছে, মাইলেজের দিক থেকে দুটো গাড়ির পারফরম্যান্সই কাছাকাছি, তবে CNG অপশন থাকায় টিয়াগো দীর্ঘমেয়াদী খরচের দিক থেকে একটু বেশি সুবিধা দেয়। আপনি যদি প্রতিদিন অনেক বেশি গাড়ি চালান, তাহলে CNG টিয়াগো আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।
রক্ষণাবেক্ষণের খরচ
গাড়ি কেনার পর শুধু জ্বালানি খরচই নয়, রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কিন্তু একটা বড় বিষয়। টাটা টিয়াগোর স্পেয়ার পার্টসগুলো তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য এবং খরচও কম। টাটার সার্ভিস নেটওয়ার্কও আমাদের দেশে বেশ ভালো, যার কারণে সার্ভিসিং করাতে খুব একটা সমস্যা হয় না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, টিয়াগোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেশ সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টোর স্পেয়ার পার্টসগুলো হয়তো টিয়াগোর মতো অতটা সহজলভ্য নাও হতে পারে, আর এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে কিয়ার সার্ভিসিং সেন্টারগুলো ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে এই সমস্যা কমিয়ে আনবে। আমার এক বন্ধু পিকাণ্টো সার্ভিসিং করিয়েছিল, তার মতে খরচটা টিয়াগোর চেয়ে সামান্য বেশি ছিল।
ড্রাইভিংয়ের অনুভূতি: রাস্তায় নেমে কেমন লাগে?
গাড়ি চালানোর আসল আনন্দটা তো রাস্তায় নামলেই বোঝা যায়, তাই না? টিয়াগো আর পিকাণ্টো, দুটো গাড়ির ড্রাইভিং অনুভূতিই বেশ আলাদা। টিয়াগোর স্টিয়ারিংটা বেশ ওয়েটড, যা হাইওয়েতে স্থিতিশীলতা দেয়। আর এর সাসপেনশনটা আমাদের দেশের রাস্তার জন্য বেশ উপযোগী, যা ভাঙাচোরা রাস্তায়ও আরামদায়ক রাইড নিশ্চিত করে। যখন আমি টিয়াগো চালাই, তখন একটা মজবুত আর নিয়ন্ত্রিত অনুভূতি পাই। এটি শহরের পাশাপাশি হাইওয়েতেও বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে চলতে পারে।
ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ও পিকআপ
টিয়াগোর ১.২ লিটার রেভোট্রন পেট্রোল ইঞ্জিনটি শহরের ড্রাইভিংয়ের জন্য যথেষ্ট পাওয়ারফুল। এটি দ্রুত গতি বাড়াতে পারে এবং ওভারটেকিংয়েও তেমন সমস্যা হয় না। গিয়ার শিফটিং বেশ স্মুথ, যা ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। পিকাণ্টোর ১.২ লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনটিও বেশ প্রাণবন্ত। এটি দ্রুত রেভ আপ হয় এবং স্পোর্টি ড্রাইভিং অনুভূতি দেয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, পিকাণ্টোর পিকআপটা শহরের জ্যামে একটু বেশি দ্রুত রেসপন্স করে। বিশেষ করে যখন ট্র্যাফিক লাইটে দাঁড়িয়ে থাকার পর দ্রুত গতি বাড়ানোর দরকার হয়, তখন পিকাণ্টো বেশ সুবিধা দেয়।
সাসপেনশন আর আরাম
টিয়াগোর সাসপেনশনটা আমার মতে বেশ ভালো টিউন করা হয়েছে। এটি ছোটখাটো গর্ত আর ভাঙাচোরা রাস্তা বেশ ভালোভাবে শোষণ করে নেয়, যার ফলে কেবিনের ভেতরে ঝাঁকুনি কম লাগে। লম্বা যাত্রায় এটি যাত্রীদের বেশ আরাম দেয়। পিকাণ্টোর সাসপেনশনও বেশ উন্নত, যা মসৃণ রাস্তায় চমৎকার রাইড কোয়ালিটি দেয়। তবে আমার মনে হয়েছে, খুব বেশি ভাঙাচোরা রাস্তায় বা বড় গর্তে পicaণ্টোর সাসপেনশন টিয়াগোর মতো অতটা শক্তিশালী নাও লাগতে পারে। তবে, মসৃণ রাস্তায় এর রাইড কোয়ালিটি অসাধারণ।
| বৈশিষ্ট্য | টাটা টিয়াগো | কিয়া পিকাণ্টো |
|---|---|---|
| বিল্ড কোয়ালিটি | মজবুত, ৪-স্টার GNCAP রেটিং | স্লিম ডিজাইন, উন্নত নিরাপত্তা ফিচার |
| শহরের ড্রাইভিং | ভারী স্টিয়ারিং, আরামদায়ক সাসপেনশন | হালকা স্টিয়ারিং, দ্রুত রেসপন্স |
| ইন্টেরিয়র ডিজাইন | প্র্যাকটিক্যাল, ইউজার-ফ্রেন্ডলি | আধুনিক, প্রিমিয়াম অনুভূতি |
| জ্বালানি দক্ষতা (পেট্রোল) | ১৫-১৭ কিমি/লিটার (শহর) | ১৪-১৬ কিমি/লিটার (শহর) |
| রক্ষণাবেক্ষণের খরচ | সাশ্রয়ী, সহজলভ্য পার্টস | তুলনামূলক বেশি, পার্টসের সহজলভ্যতা কম |
| ড্রাইভিং অনুভূতি | স্থিতিশীল, আরামদায়ক রাইড | মসৃণ, স্পোর্টি অনুভূতি |
পুনর্বিক্রয় মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ: কোনটার পাল্লা ভারী?
গাড়ি কেনার সময় অনেকেই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন, অর্থাৎ গাড়িটি যখন বিক্রি করবেন তখন কেমন দাম পাবেন। এই বিষয়টিকে বলে পুনর্বিক্রয় মূল্য বা Resale Value। টিয়াগো এবং পিকাণ্টো দুটো গাড়িরই বাজারে বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে, কিন্তু পুনর্বিক্রয় মূল্যের দিক থেকে তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। টাটা টিয়াগো যেহেতু একটি ভারতীয় ব্র্যান্ড, তাই এর পার্টস সহজলভ্য এবং এর সার্ভিস নেটওয়ার্কও বেশ বিস্তৃত। এই কারণে টিয়াগোর একটি স্থিতিশীল পুনর্বিক্রয় মূল্য রয়েছে। সাধারণত, ভারতীয় গাড়িগুলোর পুনর্বিক্রয় মূল্য সময় পেরিয়ে গেলেও খুব একটা কমে না। আমি দেখেছি, অনেকে পুরোনো টিয়াগো বিক্রি করে নতুন মডেল কিনতে গিয়ে বেশ ভালো দাম পান।
মার্কেটে চাহিদা
টাটা টিয়াগোর বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। এর কারণ হলো এর নির্ভরযোগ্যতা, সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি। এই চাহিদা পুনর্বিক্রয় মূল্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনি যদি একটি টিয়াগো বিক্রি করতে চান, তাহলে খুব সহজেই ক্রেতা পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো যদিও বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এর ব্র্যান্ড ভ্যালু এখনও টাটার মতো অতটা প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে, এর স্টাইলিশ ডিজাইন এবং আধুনিক ফিচার্সগুলো তরুণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করে, যার কারণে পিকাণ্টোরও একটি নির্দিষ্ট চাহিদা বাজারে তৈরি হয়েছে। আমার এক বন্ধু তার পিকাণ্টো বিক্রির জন্য দিয়েছিল, এবং সে মোটামুটি ভালো দামই পেয়েছে।
পার্টসের সহজলভ্যতা
পুনর্বিক্রয় মূল্যের উপর পার্টসের সহজলভ্যতা এবং সার্ভিসিংয়ের গুণগত মান একটি বড় প্রভাব ফেলে। টাটা টিয়াগোর পার্টস যেকোনো স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এবং এর সার্ভিসিং খরচও তুলনামূলকভাবে কম। এটি ক্রেতাদের জন্য একটি বড় সুবিধা, কারণ তারা জানে যে গাড়িটি কেনার পর পার্টস বা সার্ভিসিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। পিকাণ্টোর ক্ষেত্রে, যেহেতু এটি একটি কোরিয়ান ব্র্যান্ড, এর পার্টসগুলো টিয়াগোর মতো অতটা সহজলভ্য নাও হতে পারে। তবে কিয়া ধীরে ধীরে তাদের সার্ভিস নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে এবং পার্টসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা চিন্তা করলে, টিয়াগো হয়তো একটু বেশি নির্ভরযোগ্য হতে পারে তার সহজলভ্য পার্টস এবং সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।
글을마치며
সত্যি বলতে, টাটা টিয়াগো এবং কিয়া পিকাণ্টো উভয়ই শহরের রাস্তায় নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। এদের নিজস্ব কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আছে, যা আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন আর পছন্দের উপর নির্ভর করবে। আমার অভিজ্ঞতায়, টিয়াগো যদি হয় এক নির্ভরযোগ্য সহচর, পিকাণ্টো তবে শহরের ভিড়ে এক চটপটে বন্ধু। দিনের শেষে, আপনি কেমন গাড়ি চালাচ্ছেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে কোন বৈশিষ্ট্যগুলো বেশি কাজে আসছে, সেটাই আসল কথা। আশা করি আমার এই আলোচনা আপনার সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।
알아두লে 쓸모 있는 정보
১. আপনি যখন নতুন গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তখন শুধু অনলাইন রিভিউ বা বন্ধুর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক নয়। নিজে টেস্ট ড্রাইভ করে দেখাটা অত্যন্ত জরুরি। টাটা টিয়াগো বা কিয়া পিকাণ্টো, যে গাড়িই আপনার পছন্দের তালিকায় থাকুক না কেন, উভয়ই শহরের ট্র্যাফিকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। কিন্তু গাড়ির সিটিং পজিশন, স্টিয়ারিংয়ের অনুভূতি, ব্রেকিং রেসপন্স এবং সাসপেনশন আপনার শরীরের জন্য কতটা আরামদায়ক, তা কেবল নিজে চালিয়ে দেখলেই বোঝা যায়। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় প্রথম দেখায় যে গাড়িটা দারুণ মনে হয়, টেস্ট ড্রাইভের পর হয়তো অন্যরকম অনুভূতি দেয়। তাই অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট ধরে গাড়ি চালিয়ে দেখুন, শহরের ভেতরের জ্যাম আর খোলা রাস্তায় দু’জায়গাতেই। এতে গাড়ির হ্যান্ডলিং এবং কমফোর্ট লেভেল সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও একবার টেস্ট ড্রাইভ করলে তাদের মতামতও জানতে পারবেন, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়ক হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতকে ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে যাচাই করুন। এই কাজটি আপনার জন্য সঠিক গাড়িটি বেছে নেওয়ার পথ আরও সহজ করে দেবে।
২. গাড়ি কেনার সময় আমরা প্রায়শই গাড়ির দাম নিয়ে বেশি ভাবি, কিন্তু গাড়ির দীর্ঘমেয়াদী খরচ, যেমন—রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি এবং বিমা—এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টাটা টিয়াগোর ক্ষেত্রে, এর যন্ত্রাংশ তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং দেশের প্রায় সবখানে টাটার সার্ভিস সেন্টার থাকায় রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেকটাই কম হয়। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো যদিও দেখতে আকর্ষণীয় এবং আধুনিক ফিচার্সযুক্ত, এর যন্ত্রাংশ হয়তো টিয়াগোর মতো অতটা সহজলভ্য বা সস্তা নাও হতে পারে। এছাড়াও, এর সার্ভিসিং খরচও কিছুটা বেশি হতে পারে, কারণ কোরিয়ান ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, গাড়ির মাইলেজও দীর্ঘমেয়াদী খরচের একটি বড় অংশ দখল করে। প্রতিদিনের যাতায়াতের পরিমাণ যদি বেশি হয়, তাহলে জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি যেমন টিয়াগোর সিএনজি ভ্যারিয়েন্ট আপনার জন্য দারুণ বিকল্প হতে পারে। তাই কেনার আগে গাড়ির সার্ভিসিং খরচ, খুচরা যন্ত্রাংশের দাম এবং মাইলেজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। এতে আপনার মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে এবং ভবিষ্যতে অপ্রত্যাশিত খরচের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন। একটি স্মার্ট বিনিয়োগ কেবল গাড়ির প্রাথমিক দামের উপর নির্ভর করে না, বরং এর অপারেটিং খরচের উপরও নির্ভর করে।
৩. আজকের দিনে গাড়ির নিরাপত্তা ফিচার্সগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আমাদের দেশের ব্যস্ত রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, তাই আপনার এবং আপনার পরিবারের সুরক্ষার জন্য একটি নিরাপদ গাড়ি বেছে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টাটা টিয়াগো গ্লোবাল NCAP ক্র্যাশ টেস্টে ৪-স্টার রেটিং পেয়ে তার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে, যা এই সেগমেন্টের অন্যান্য অনেক গাড়ির থেকে বেশ এগিয়ে। এর মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ডুয়াল এয়ারব্যাগ, ABS সহ EBD আপনার সুরক্ষার জন্য একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করে। পিকাণ্টোতেও ডুয়াল এয়ারব্যাগ এবং ABS-এর মতো মৌলিক নিরাপত্তা ফিচার্সগুলো রয়েছে, যা আধুনিক গাড়ির জন্য আবশ্যক। তবে, টিয়াগোর উচ্চ ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং একটি মানসিক স্বস্তি দেয়। আমার মনে আছে, আমার এক বন্ধু একটি টিয়াগো দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল, এবং গাড়ির মজবুত কাঠামো তাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিল। তাই কেনার সময় গাড়ির এয়ারব্যাগ সংখ্যা, ব্রেকিং সিস্টেমের কার্যকারিতা, এবং বডি স্ট্রাকচারের মজবুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। সম্ভব হলে, বিভিন্ন সুরক্ষা রেটিং ওয়েবসাইট থেকে গাড়ির ক্র্যাশ টেস্ট রিপোর্টগুলো যাচাই করে নিন। সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা উচিত নয়, কারণ এটি আপনার এবং আপনার প্রিয়জনদের জীবনের সাথে জড়িত।
৪. গাড়ি কেনা একটি বড় বিনিয়োগ, এবং অনেক সময়ই আমরা ভবিষ্যতে গাড়িটি বিক্রি করার কথা মাথায় রাখি। এখানে পুনর্বিক্রয় মূল্য বা Resale Value একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টাটা টিয়াগো একটি ভারতীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায়, এর পুনর্বিক্রয় মূল্য বেশ স্থিতিশীল থাকে। টাটার শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং পার্টসের সহজলভ্যতাও এর পুনর্বিক্রয় মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ ক্রেতারা জানে যে পুরোনো টিয়াগো কিনলে পার্টস বা সার্ভিসিং নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না। অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টো যদিও বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এর ব্র্যান্ড ভ্যালু এখনও টাটার মতো অতটা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। তবে, এর স্টাইলিশ ডিজাইন এবং আধুনিক ফিচার্সগুলো এটিকে তরুণ ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে, যা এর পুনর্বিক্রয় মূল্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এমন গাড়ি বেছে নেওয়া উচিত যা সময়ের সাথে সাথে তার মূল্য খুব বেশি হারায় না। একটি ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা এবং তার সার্ভিসিং নেটওয়ার্ক যত বেশি শক্তিশালী হবে, সেই গাড়ির পুনর্বিক্রয় মূল্য তত বেশি ভালো হবে। তাই, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিকটি বিবেচনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. গাড়ি কেনার সময় কেবল আকর্ষণীয় ফিচার্স দেখে লোভে পড়লে চলবে না, বরং আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। টাটা টিয়াগো এবং কিয়া পিকাণ্টো, উভয় গাড়িরই নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। আপনি যদি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বেশি গাড়ি চালান এবং সরু গলি বা ছোট পার্কিং স্পটে সহজে গাড়ি maneuver করতে চান, তাহলে পিকাণ্টোর হালকা বডি এবং ছোট টার্নিং রেডিয়াস আপনার জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে। কিন্তু যদি আপনি প্রায়শই দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করেন বা আপনার পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হয়, তাহলে টিয়াগোর মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি, আরামদায়ক সাসপেনশন এবং বেশি প্রশস্ত কেবিন আপনার জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। আমার এক প্রতিবেশী পিকাণ্টো কেনার পর আফসোস করেছিল কারণ তার পরিবার বড় হওয়ায় লম্বা যাত্রায় সবাই আরাম পেত না। তাই, কেনার আগে আপনার দৈনন্দিন যাতায়াতের ধরণ, পরিবারের আকার, এবং গাড়ির প্রধান ব্যবহার কী হবে, তা নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করুন। সব ফিচার্স সেরা হলেও, যদি তা আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সাথে না মেলে, তাহলে সেই গাড়ির মালিক হয়ে আপনি পূর্ণ সন্তুষ্টি পাবেন না। নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আসল বিচক্ষণতা।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একনজরে
আলোচনার গভীরে গিয়ে আমরা টাটা টিয়াগো এবং কিয়া পিকাণ্টো—এই দুই গাড়ির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, দুটো গাড়িই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখায়, কিন্তু আপনার জীবনের স্টাইল আর প্রয়োজন অনুযায়ী সেরাটা বেছে নেওয়া উচিত।
শহরের পরিবেশের জন্য
শহরের যানজটপূর্ণ রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য টিয়াগো তার মজবুত বিল্ড আর আরামদায়ক সাসপেনশনের কারণে বেশ নির্ভরযোগ্য। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে বসে থাকলেও তেমন ক্লান্তি আসে না। অন্যদিকে, পিকাণ্টো তার চটপটে স্বভাব, হালকা স্টিয়ারিং আর ছোট আকার দিয়ে শহরের সরু গলিতে বা পার্কিংয়ে দারুণ সুবিধা দেয়। যদি আপনার শহর মানেই ছোট ছোট গলি আর সীমিত পার্কিং স্পেস হয়, তবে পিকাণ্টো আপনাকে একটু বেশি স্বস্তি দেবে।
সুরক্ষা ও আধুনিকতা
সুরক্ষার দিক থেকে টিয়াগো তার ৪-স্টার গ্লোবাল NCAP রেটিং দিয়ে বেশ এগিয়ে, যা পরিবার নিয়ে যারা গাড়ি চালান, তাদের জন্য একটি বড় মানসিক স্বস্তি। পিকাণ্টোতেও আধুনিক নিরাপত্তা ফিচার্স রয়েছে, তবে ক্র্যাশ টেস্ট রেটিংয়ের ক্ষেত্রে টিয়াগো একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে, পিকাণ্টো তার প্রিমিয়াম লুক আর আধুনিক ফিচার্স দিয়ে তরুণদের মন জয় করবে, যেখানে টিয়াগো প্র্যাকটিক্যাল ডিজাইন আর ইউজার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেসের উপর জোর দেয়।
পকেটের হিসাব আর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ
জ্বালানি খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিক থেকে টিয়াগো একটি সাশ্রয়ী বিকল্প, বিশেষ করে এর সিএনজি ভ্যারিয়েন্টটি পকেটের জন্য বেশ আরামদায়ক। এর যন্ত্রাংশ সহজলভ্য এবং সার্ভিসিং খরচও কম। পিকাণ্টোর জ্বালানি দক্ষতাও ভালো, তবে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। পুনর্বিক্রয় মূল্যের ক্ষেত্রে, টাটা টিয়াগোর বাজারের চাহিদা ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বেশ শক্তিশালী, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এটিকে একটি নিরাপদ পছন্দ করে তোলে।
শেষ পর্যন্ত, আপনার নিজের প্রয়োজন, ড্রাইভিংয়ের ধরণ এবং বাজেটই আপনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে। আশা করি এই বিশদ আলোচনা আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক পথ দেখাবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: টাটা টিয়াগো আর কিয়া পিকাণ্টোর মধ্যে নিরাপত্তার দিক থেকে কোনটা বেশি ভরসাযোগ্য? আর বিল্ড কোয়ালিটির ব্যাপারটা কেমন?
উ: দেখুন ভাই, গাড়ি কেনার সময় নিরাপত্তা আর বিল্ড কোয়ালিটি সবার আগে দেখা উচিত, আর আমিও এই জিনিসটা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, টাটা টিয়াগো এই দিকটায় বেশ এগিয়ে। গ্লোবাল এনক্যাপ ক্র্যাশ টেস্টে টিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের সুরক্ষায় ৪-স্টার রেটিং পেয়েছে, আর বাচ্চাদের সুরক্ষায় পেয়েছে ৩-স্টার। এটা কিন্তু এই সেগমেন্টের গাড়ির জন্য খুবই ভালো একটা স্কোর। টাটা মোটরস বরাবরই মজবুত বডি স্ট্রাকচারের জন্য পরিচিত, আর টিয়াগো এর ব্যতিক্রম নয়। আমি যখন প্রথম টিয়াগো চালিয়েছিলাম, তখন এর দরজা বন্ধ করার শব্দ আর হাইওয়েতে এর স্থায়িত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছিল। একটা প্রিমিয়াম আর নিরাপদ গাড়ির অনুভূতি এতে আপনি পাবেন, যেটা যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে।অন্যদিকে, কিয়া পিকাণ্টোতেও আধুনিক নিরাপত্তার বেশ কিছু ফিচার আছে, যেমন ২০২৪ মডেলগুলোতে ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং, অটোমেটিক এমার্জেন্সি ব্রেকিং, অ্যাক্টিভ লেন অ্যাসিস্ট্যান্ট, আর ড্রাইভার অ্যাটেনশন ওয়ার্নিং সিস্টেমের মতো উন্নত ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) এর কথা শোনা যাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয়, এর গ্লোবাল এনক্যাপ ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য এখনো আমার চোখে পড়েনি। যদিও কিয়া পিকাণ্টোর ডিজাইন খুবই আকর্ষণীয় আর এর ইন্টেরিয়রটা বেশ স্মার্ট, কিন্তু যখন সুরক্ষার কথা আসে, তখন একটা প্রমাণিত ক্র্যাশ টেস্ট রেটিং সবসময়ই বেশি ভরসা যোগায়। তাই, যদি আপনার কাছে সুরক্ষা আর গাড়ির মজবুত গঠন সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়, তাহলে টাটা টিয়াগোকে আমি এগিয়ে রাখবো। কারণ, জীবন তো একটাই, তাই না?
প্র: শহরের যানজটে রোজকার যাতায়াতের জন্য কোন গাড়িটা বেশি আরামদায়ক হবে? মাইলেজ কেমন পাবো দুটোর থেকেই?
উ: শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই তো জ্যাম, ছোট গলি আর পার্কিংয়ের সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে আরাম আর জ্বালানি দক্ষতা দুটোই খুব দরকারি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, টাটা টিয়াগো শহরের জন্য খুবই উপযোগী। এর ১.২ লিটার রেভোট্রন ৩-সিলিন্ডার পেট্রোল ইঞ্জিন (৮৪.৮২ বিএইচপি) শহরের ট্রাফিকে খুব সাবলীলভাবে চলে। বিশেষ করে, এর AMT (অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন) ভ্যারিয়েন্টটি জ্যামে ড্রাইভিংয়ের জন্য দারুণ আরামদায়ক। আমি নিজে যখন ভিড়ের রাস্তায় টিয়াগো চালিয়েছি, তখন এর মসৃণ গিয়ার শিফটিং আর ছোট টার্নিং রেডিয়াস আমাকে খুব সাহায্য করেছে। মাইলেজের কথা বললে, পেট্রোলে প্রায় ১৯-১৯.০১ কিলোমিটার প্রতি লিটার আর সিএনজি মডেলে ২১-২৮ কিলোমিটার প্রতি কেজি মাইলেজ পাওয়া যায়। এটা দৈনন্দিন খরচ কমানোর জন্য খুবই ভালো।কিয়া পিকাণ্টোও কিন্তু শহরের জন্য খুব ভালো একটা অপশন। এর ১.০ লিটার (৬৯ বিএইচপি) বা ১.২ লিটার (৮৪ বিএইচপি) পেট্রোল ইঞ্জিনগুলো বেশ কর্মক্ষম। পিকাণ্টোর স্লিক ডিজাইন আর কমপ্যাক্ট আকার এটাকে শহরের ভিড়ে সহজেই চলাচলের জন্য পারফেক্ট করে তোলে। আমি জানি অনেকে কিয়ার মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা আর ইন্টেরিয়র পছন্দ করেন। মাইলেজের দিক থেকে, ২০২০ সালের মডেলগুলোতে শহরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার প্রতি লিটার আর হাইওয়েতে ২০ কিলোমিটার প্রতি লিটার পর্যন্ত পাওয়া যায়। যদিও টিয়াগোর সিএনজি অপশনটা খরচ কমানোর জন্য বাড়তি সুবিধা দেয়, কিয়া পিকাণ্টোর ডিজাইন আর শহরের মধ্যে এর চটপটে ভাব আপনাকে মুগ্ধ করবে। আপনার যদি সিএনজি নিয়ে মাথাব্যথা না থাকে এবং আপনি একটি স্টাইলিশ ও আরামদায়ক গাড়ি চান, তাহলে পিকাণ্টোও বেশ ভালো। তবে, মাইলেজ আর কম রক্ষণাবেক্ষণের দিকে যদি আপনার বেশি ঝোঁক থাকে, তাহলে টিয়াগো এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
প্র: পারিবারিক ব্যবহারের জন্য কোন গাড়িটি বেশি উপযুক্ত? ভেতরের জায়গা, আরাম এবং আধুনিক ফিচারের দিক থেকে কোনটা কেমন?
উ: পরিবারের সাথে যাতায়াত মানেই ভেতরের পর্যাপ্ত জায়গা, আরাম আর আধুনিক ফিচার – তাই না? এই দুটো গাড়িই ছোট হ্যাচব্যাক সেগমেন্টে নিজেদের সেরাটা দিতে চেষ্টা করে। টাটা টিয়াগোর কথা বলি আগে। এর ইন্টেরিয়রটা বেশ খোলামেলা, বিশেষ করে এর দৈর্ঘ্য (৩৭৬৭ মিমি) আর হুইলবেস (২৪০০ মিমি) এটিকে যথেষ্ট আরামদায়ক করে তোলে ৫ জন যাত্রীর জন্য। আমি যখন আমার পরিবার নিয়ে টিয়াগোতে লং ড্রাইভ করেছি, তখন সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছে। এতে আধুনিক টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, পাওয়ার উইন্ডো, এসি ইত্যাদি ফিচারগুলো দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তোলে। আর এর বুট স্পেস (২৪২ লিটার) কিন্তু ছোট পরিবারের জন্য যথেষ্ট, যদিও সিএনজি ভ্যারিয়েন্টে সিলিন্ডারের কারণে কিছুটা কমে যায়।কিয়া পিকাণ্টোও এই দিকটায় পিছিয়ে নেই। এর ডিজাইন খুবই স্মার্ট এবং ইন্টেরিয়রটা বেশ প্রিমিয়াম লুক দেয়। দৈর্ঘ্য (৩৫৯৫ মিমি) এবং হুইলবেস (২৩৮৫ মিমি) টিয়াগোর চেয়ে সামান্য কম হলেও, কিয়া তার জায়গা ব্যবস্থাপনার জন্য বেশ প্রশংসিত। বিশেষ করে, এর উন্নত মাল্টিমিডিয়া আর কানেক্টিভিটি ফিচারগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আধুনিক টাচস্ক্রিন, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, আর স্টিয়ারিং মাউন্টেড কন্ট্রোলস আপনার যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। আমার মনে হয়, পিকাণ্টোর বুট স্পেস (২০০ লিটার) টিয়াগোর থেকে সামান্য কম হলেও, শহরের ব্যবহার বা ছোট পরিবারের জন্য এটা ঠিকই কাজে দেবে। যদি আপনি অত্যাধুনিক ADAS ফিচারগুলো উপভোগ করতে চান, তাহলে ২০২৪ সালের পিকাণ্টো মডেলগুলো একটা দারুণ প্যাকেজ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, যদি আপনার কাছে প্রমাণিত সুরক্ষা রেটিং আর একটু বেশি বুট স্পেস দরকার হয়, তাহলে টিয়াগো ভালো। আর যদি আপনি স্টাইলিশ ডিজাইন, আধুনিক ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স ফিচার্স আর একটু চটপটে শহরের গাড়ি চান, তাহলে পিকাণ্টো আপনার মন জয় করবেই। দুটোই ভালো অপশন, কিন্তু আপনার প্রয়োজন আর পছন্দের ওপর নির্ভর করে সেরাটা বেছে নিতে হবে।






